পরিচিতি

১৯৯৯ সালের ২৪শে ডিসেম্বর দেশের এক বরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব ডঃ জামিলুর রেজা চৌধুরী ঢাকার অদূরে গাজীপুরের জোড়পুকুর পাড়ে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের পরীক্ষামূলক শাখাটির উদ্বোধন করে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন ।
২০০০ সালের জানুয়ারীতে গাজীপুরের জোড়পুকুর পাড়ে চালু করা হয় একটি মাত্র পরীক্ষামূলক স্কুল । ২০০০ সাল জুড়ে ২৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সেই স্কুলটি সূচনা করে এক স্বপ্নের । তবে ২০০১ সালে এই পরীক্ষামূলক স্কুলটির পরিচালনায় আসে পরিবর্তন এবং সেই কারণেই সেই স্কুলটি এখন আর আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল নয় । কিন্তু যে স্বপ্নের সূচনা হয় গাজীপুরের জোড়পুকুর পাড় থেকে তার বিস্তৃতি ঘটে দেশ জুড়ে । ২০০১ সালে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, মনোহরদী, টাঙ্গাইল, বগুড়া ও রাজশাহীতে শুরু হয় অন্য দশটি মাল্টিমিডিয়া স্কুল ।
মাল্টিমিডিয়া স্কুল হলো এমন একটি সম্পূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রদান করা হয় । এসব স্কুলে প্রচলিত বিষয়াদির বাইরে কম্পিউটার বিজ্ঞান শেখানো হয় । এছাড়া প্রচলিত বিষয়গুলোকে বই-খাতাপত্রের পাশাপাশি কম্পিউটারের মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাদান করা হয় ।



       

মাল্টিমিডিয়া স্কুলের বৈশিষ্ট্য ক) মাল্টিমিডিয়া স্কুল একটি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । এটি কোন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয় । এখানে একটি ছাত্রের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রদান করা হয় । এই স্কুলের ছাত্রদেরকে অন্য কোন স্কুলে সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় না । এতে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল বিষয় শেখানোর পাশাপাশি অন্যান্য কিছু অতিরিক্ত বিষয়াদিও শেখানো হয় । ইংরেজী, অঙ্ক ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকভাবে শেখানো হয় প্লেগ্রুপ ও নার্সারী থেকে ।
খ) এসব স্কুলগুলোতে সরকারী নিয়মানুযায়ী পাঠ্য বিষয়াদি রয়েছে। এই স্কুলগুলোতে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও পাঠক্রম বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো হয়। বই, খাতা, কলম, পেন্সিল এই স্কুলে ব্যবহৃত হয়। তবে এর সাথে বাংলা, ইংরেজী, অংক এবং কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করা হয়। কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয় এসব বিষয়ে শিক্ষাদানের শিক্ষা উপকরণ হিসেবে।
গ) বিদ্যমান স্কুলগুলোর সাথে এসব স্কুলের প্রধানতম পার্থক্য হলো যে এতে কেবল কম্পিউটার বিষয়টি শেখানো হয়না, কম্পিউটারকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার দিয়ে ইংরেজী, বাংলা, অংক, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়াদি শেখানো হয়। এসব শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় বিশ্বমানের সফটওয়্যার এবং নিজস্ব ল্যাবে প্রস্তুতকৃত শিক্ষামূলক মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার।
ঘ) এসব স্কুলে শিক্ষাদানের জন্য কেবলমাত্র সাধারণ শিক্ষাপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দই কাজ করেন না। বিশেষভাবে বাংলা, ইংরেজী, কম্পিউটার,শিশুশিক্ষা, শিশু পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবার পরই এই স্কুলে শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়।
ঙ) এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা বিশেষভাবে তৈরী করা দেশীবিদেশী সফটওয়্যার দিয়ে শিক্ষাগ্রহণ করে। এসব সফটওয়্যার আবার বিশেষভাবে বাছাই করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরা স্কুলের জন্য বিশেষ করে সফটওয়্যার তৈরী করেন।
চ) শিক্ষাকে স্কুলকেন্দ্রিকই করা হয়েছে। স্কুলের বাইরে গৃহশিক্ষার প্রয়োজন থাকলেও কোচিংকে শিক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
ছ) স্কুলগুলো প্রধানত বাংলা মাধ্যমের।
জ) এই স্কুলে শিক্ষাদানের জন্য ইন্টারনেট ও ইন্ট্রানেট ব্যবহৃত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষিকা ও প্রশাসনের সকলের পাশাপাশি অভিভাবকদের ইন্টারনেট ও ইন্ট্রানেট ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারচুয়াল শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
ঝ) স্কুলের পাঠ্যবই ও কম্পিউটার শিক্ষাদানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, ক্রীড়া, আত্মউন্নয়ণ সংক্রান্ত বিষয়াদি শেখানো হয়
ঞ) এসব স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এই স্কুলেই পড়তে পারবে। অন্য কোন স্কুলে যেতে হবে না।
ট) এই স্কুলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে পিরিয়ড কম্পিউটার ল্যাবে করবে।
ঠ) কোন কোন স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
ড) কোন কোন স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করছে।
ঢ) এই স্কুলের শিক্ষিকারা শিশুদের যত্ন নেন মায়ের মতো করে।