ডিজিটাল যুগে বিলুপ্তির চ্যালেঞ্জে বাংলা

Posted on 2016-08-28

শিরোনামটি কাউকে চমকে দিতে পারে। এমনকি এটি যে কারও জন্য বিস্ময়কর ও দুঃখজনক মনে হতে পারে যে, বাংলা ভাষার নামে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে সেই ভাষার জন্যই এখন চরম দুর্দিন বিরাজ করছে। যদি আমাদেরকে এটি ভাবতে হয় যে, আমরা যতোই ডিজিটাল হচ্ছি বাংলা ভাষার দুর্দিন ততোই বাড়ছে- তবে কেমন লাগবে একজন বাংলা ভাষাভাষী হিসেবে। সাম্প্রতিককালে এই দুর্দশাটি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। চারদিকে তাকিয়ে কেবল বাংলা ভাষা ও লিপির দুর্দিনই দেখতে পাচ্ছি। কোন মহল থেকেই এই চরম সংকট থেকে বাংলাকে উদ্ধারের কোন প্রচেষ্টা দেখছি না। বরং একদল মানুষ বাংলা ভাষাকে বিপন্ন করার জন্য সকল শক্তি দিয়ে ওঠেপড়ে লেগেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা ডিজিটাল যুগের বাসিন্দা থাকবো বটে-তবে বাংলা ভাষার সঠিক (বা কোন প্রকারের) ব্যবহার থাকবে না। আমি বাংলা লিপির বিলুপ্তিরও আশঙ্কা করছি। যদিও আমি এটিও বিশ্বাস করি যে ৩৫ কোটি লোকের ব্যবহৃত একটি লিপি কোনভাবেই বিলুপ্তির স্তরে যেতে পারে না, তবুও ডিজিটাল রূপান্তরের নামে বিশেষত বাংলাদেশে যেসব কাজ হচ্ছে তাতে আশঙ্কার চ্যালেঞ্জের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছেই। চিন্তা করে দেখুন; এটি কি ভাবা যায় যে, রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে যে জাতি সেই জাতির হাতেই তার মাতৃভাষা বা তার রক্ত মাখানো বর্ণমালা হারিয়ে যাবে? এটি কি দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করা যায় যে, সেই পথেই পা বাড়িয়েছি আমরা। কেউ কি এটি ভাবতেও পারেন যে, আমাদের সরকারের দুর্বলতার জন্য বাংলা ভাষাকে এখনও দেবনাগরী কোড ব্যবহার করতে হয়। কেউ কি ভাবতে পারেন যে, কম্পিউটারে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য সেসব মাণ প্রণয়ন করার কথা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। কেউ কি ভাবতে পারেন যে, খোদ সরকার কীবোর্ড পাইরেসির দায় ঘাড়ে নিয়ে বছরের বছর নীরবতা পালন করছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য সেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবার কথা তার অগ্রগতি মোটেই সন্তোষজনক নয় বা এইসব কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিজের মাঝেই সমন্বয় নেই। আপনারা কি ফেসবুক বা টুইটারে দেখেন আমাদের বঙ্গ সন্তানরা কি সুন্দর বাংলা লেখেন? এটি ভাবতে পারেন যে ফেসবুকের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলিশ, অশুদ্ধ ও শুদ্ধ মিলিয়ে শতকরা মাত্র ৮ ভাগ মানুষ বাংলা ব্যবহার করে। কেউ কি এটি ভাবতে পারেন যে, রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল নামক দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখন তাই রোমান হরফে বাংলা লেখে। সরকারের এসএমএসগুলো কি দেখেন? কি চমৎকারভাবে রোমান হরফ দিয়ে ভুল বাংলায় লেখা হয়। কেউ কি এটি কল্পনা করতে পারেন যে, সরকার নিজেই তার প্রণীত মান মানেন না? এটিও হয়তো কেউ ভাবেননি যে যতোই দিন যাচ্ছে ততোই সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার কমছে এবং তার একমাত্র অজুহাত হচ্ছে ডিজিটাইজেশন। বাস্তব অবস্থাটি আমার ওপরের বর্ণনার চাইতেও ভয়াবহ। আরও ভয়াবহ যে এই বিষয় নিয়ে সরকারতো কথা বলেইনা, দেশের সুশীল সমাজও কথা বলেন না। বাংলা ভাষার জন্য যারা কথায় কথায় জীবন দিয়ে ফেলেন তারাও কথা বলেন না। বাংলাদেশে বাংলা ভাষা এখন এতিমের মতো অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠছে। এক. প্রমিতকরণের সংকট: বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো কম্পিউটারে বাংলা ভাষার নীতিগত, প্রমিতকরণ ও প্রয়োগিক বিষয়গুলোর কাজ সম্পন্ন করার। ২০০৩ সালে এক নির্বাহী আদেশে প্রমিতকরণের কাজটি বিএসটিআই থেকে কম্পিউটার কাউন্সিলে নিয়ে আসা হয়। মূলত বিজয় কীবোর্ড যাতে প্রমিত না হতে পারে কাজটি করা হয় সেজন্য। তৎকালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জনাব সবুর খান তখনকার মন্ত্রী আব্দুল মইন খান ও কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক জনাব আব্দুস সালামের সহায়তায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে দিয়ে এই কাজটি করান। এরপর কম্পিউটার কাউন্সিল বিজয় কীবোর্ডকে নকল করে একটি কীবোর্ড প্রণয়ন করে ও কপিরাইট গ্রহণ করে। তারা বিএসটিআই থেকে এর অনুমোদনও গ্রহণ করে। বেগম জিয়ার আমলে সেই কীবোর্ড সম্পর্কে আপত্তি করা হলেও সেটি কম্পিউটার কাউন্সিল আমলে নেয়নি। এমনকি ২০১৬ সালেও কপিরাইট বোর্ড এই বিষয়ক আপত্তির নিষ্পত্তি করেনি। এর মানে এখনও এই বিষয়টি কপিরাইট বোর্ড ও কম্পিউটার কাউন্সিলে ঝুলে আছে। তবে কাউন্সিল এখন অফিসিয়ালি জাতীয় কীবোর্ড আছে বলে দাবি করেনা। শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালেই উপলব্ধি করে যে, কারও সম্পদ নকল করে প্রমিত করা সঠিক কাজ নয়। এজন্য প্রমিত কীবোর্ড প্রসঙ্গটি নিয়ে টানা হেঁচড়া না করে কম্পিউটারের জন্য এনকোডিং প্রমিত করার কাজটি সম্পন্ন করা হয়। কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতাধীন একটি কমিটির নেতৃত্বে বাংলা ওসিআর, টেক্সট টু স্পীচ, স্পীচ টু টেক্সট, সর্টিং অর্ডার ইত্যাদি কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এক্ষেত্রে কাজের কাজ বলতে গেলে কিছুই হয় নাই। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সরকার এরই মাঝে জাতীয় কীবোর্ড নিয়ে জটিলতায় জড়িত থাকার পর স্মার্ট ফোনের কোয়ার্টি কীবোর্ড কি হবে সেটি নিয়েও আর সামনে যাচ্ছে না। ফলে স্মার্ট ফোনের জন্য কোন প্রমিত কীবোর্ড সহসাই পাওয়া যাবে না। খুব সঙ্গত কারণেই স্মার্ট ফোনে নানা ধরনের কীবোর্ড প্রচলিত হতে থাকবে। কোন এক সময়ে আমরা কীবোর্ডের জঙ্গলে বাস করবো। কম্পিউটারে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জটিল জায়গাটি রয়ে গেছে এর এনকোডিং প্রসঙ্গটি। এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমিতকরণ ইস্যু। সরকার বিডিএস ১৫২০:২০১১ নামের একটি প্রমিত এনকোডিং অনুমোদন করে নিজেরাই ইউনিকোড এনকোডিং অনুসরণ করছে। সরকার নিজেই বোঝে না যে বিডিএস ১৫২০:২০১১ এবং ইউনিকোড এক জিনিস নয়। এটি বোধহয় দুনিয়াতে বিরল যে, সরকার তার নিজের প্রমিতকরণ মানেনা। এটুআই ও কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে সরকারের সকল তথ্য ইউনিকোডে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জাতীয় ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে সরকারের সকল ডাটা ইউনিকোডে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অথচ সরকারের উচিত ছিলো বিডিএস ১৫২০;২০১১ প্রমিত মানে সকল ডাটা সংরক্ষণ করা। এই বিষয়টির প্রতি আমি শত শত বার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সরকারের টনক নড়াতে পারছি না। এর ফলে বাংলা ভাষা কোড ইন্টারচেঞ্জের ক্ষেত্রে চরম জটিলতায় পড়েছে। সম্প্রতি ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের কারিগরি কমিটির সভায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল যোগ দিয়ে জানতে পারে যে, বাংলাদেশ সরকারের প্রমিতকরণ এই কনসোর্টিয়াম মানছে না। তারা দেবনাগরী থেকে দুটি কোড এনে বাংলা ভাষার সাথে যেভাবে যুক্ত করে রেখেছে তা তারা পরিবর্তন করতে চায় না। দীর্ঘদিন যাবত ইউনিকোডের সাথে যোগাযোগ না করায় বা আইএসওতে কোন প্রস্তাব না পাঠানোতে আমরা এখনও দেবনাগরী কোডকেই বাংলা কোড হিসেবে ব্যবহার করছি। দুঃখজনকভাবে সরকার ইউনিকোড ব্যবহারের নামে সেই দেবনাগরী কোডকেই পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এই জটিলতার নিরসন না করা হলে আমরা ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য এক চরম জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখে যাবো। এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। যদি আমরা ইউনিকোডকে মেনে নিই তবে আমাদের জাতীয় মান সংশোধন করা উচিত। নইলে সকল ডাটা আমাদের জাতীয় মানে সংরক্ষণ করে সকলকে জাতীয় মান অনুসরণ করতে বাধ্য করা উচিত। দুই. বাংলা ভাষার উন্নয়নের সংকট: আমি মনে করেছিলাম যে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলা ভাষার সংকট দূরীভূত হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। বরং এই সরকারের সাড়ে সাত বছর পার হবার পরও ডিজিটাল যুগে বাংলা ভাষার চরম দুর্দিন বিরাজ করছে। আমরা সর্বশেষ যেটি জানতে পেরেছি সেটি হলো তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৪টি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এই চারটি প্রকল্পের মাঝে আছে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডার, টেক্সট ও টু স্পীচ, স্পীচ টু টেক্ট, বাংলা করপাস ইত্যাদি। ২০০৯ সাল থেকেই এই প্রকল্পগুলোর কথা বলা হয়েছে। আমি নিজে এই খাতে টাকা বরাদ্দ করার জন্য অর্থমন্ত্রীর সাথে কথাও বলেছি। তিনি আমাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এজন্য টাকার অভাব হবেনা। প্রকল্প দিতে বল। কিন্তু সর্বশেষ খবর হচ্ছে; এটি এতোদিন পরও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সুখনিদ্রায় রয়েছে। অন্যদিকে ওসিআর বানানোর জন্য সরকারের একাধিক উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। এটুআই ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে এই কাজটি সম্পন্ন করে । টীম ইঞ্জিন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে ওসিআর ডেভলপ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এদেরকে দিয়ে কাজ করানোর আন অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে। এর আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আইডিআরসির টাকায় ওসিআর নিয়ে কাজ করেছে। এমনকি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ও ওসিআর নিয়ে কাজ করেছে বলে জানা গেছে। সরকার টীম ইঞ্জিনের ওসিআর বিপুল টাকা দিয়ে কিনেছে। এর উদ্বোধন হয়েছে। আমি ছিলাম সেই অনুষ্ঠানে। কিন্তু একটি মানুষকেও সেই ওসিআর ব্যবহার করতে দেখছি না। বাকিগুলো প্রকল্প আলোর মুখই দেখেনি। এটুআই টকিং বুকস নামক আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যেটি মন্ত্রণালয়ের টেক্সট টু স্পীচ প্রকল্পের মতোই ফলাফল দেবে। এসব তথ্য জানতে গিয়ে এটি বোঝা গেছে যে, সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং এটুআই-এর মাঝে সমন্বয় না থাকার ফলে বছরের পর বছর ধরে কম্পিউটারে বাংলা ভাষার উন্নয়ন কাজ আটকে আছে। যদি আইসিটি বিভাগের বাংলা ভাষার প্রকল্পটি অবশেষে বাস্তবায়িত হয় তবে এখানে একটু আশার আলো দেখতে পাবো। তিন. রোমান হরফে বাংলা: ডিজিটাল যুগে বাংলা ভাষার সচেয়ে বড় সংকটের নাম রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রবণতা। আমরা মোবাইলে এসএমএস পাঠাতে গিয়ে রোমান হরফ ব্যবহার করি-অনেক ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার জন্য। অথচ বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলা সমর্থন করে না এমন মোবাইল সেট বাংলাদেশে আসার কথা নয়। বিটিআরসি নির্দেশ দিলেও সেটি বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেয়নি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর বাণী বা সরকারি বক্তব্য এখনও রোমান হরফেই প্রচার করা হয়। ব্যক্তিগত প্রবণতা এমন যে কেবল মোবাইল নয়, ফেসবুক-টুইটার বা অন্য সকল ডিজিটাল মাধ্যমে বেশির ভাগ বাংলা ভাষাভাষী রোমান হরফে বাংলা লেখেন। অথচ ইন্টারনেটে বাংলা লেখা মোটেই সমস্যার নয়। এখনকার মোবাইল সেট বা ব্রাউজার কোথাও বাংলার সীমাবদ্ধতা নেই। তবে সর্বনাশের বড় কাজটি করেছে এটুআই ও কম্পিউটার কাউন্সিল। তারা বাংলা লেখার জন্য রোমান হরফ দিয়ে লেখার প্রক্রিয়াকে সরকারিভাবে নির্দেশ দিয়ে সকলকে বাধ্য করছে যাতে রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লেখা হয়। ওরা নিজেরা রোমান হরফে বাংলা লেখে এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে যাতে রোমান হরফ দিয়ে বাংলা লেখা হয়। এই চরম ঘৃণিত কাজটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত পালিত হবার ফলে বাংলা লিপি কোন একদিন বিলুপ্তই হয়ে যাবে। চার. ডিজিটাল মানেই বাংলার বিদায়: কারও কারও স্মৃতিতে থাকতে পারে যে বঙ্গবন্ধুর সরকারের নির্দেশনা অনুসারে সরকারী অফিস-আদালত-ব্যাংক ইত্যাদিতে বাংলা ব্যবহৃত হতো। এখন এসব কর্মকাণ্ড ডিজিটাল করা হচ্ছে। কষ্ট পেলেও সত্য যে ডিজিটাল যখনই করা হয় তখনই সেখান থেকে বাংলা ভাষাকে উচ্ছেদ করা হয় আমরা সবাই জানি উচ্চ আদালতের মতো উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষার অস্তিত্বই নেই। বঙ্গবন্ধু যে শিক্ষাকে বাংলায় প্রচলন করেছিলেন সেটি এখন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা বদলে যাচ্ছে। আমি ডিজিটাল যুগে বাংলা ভাষার মাত্র কয়েকটি জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বাংলা ভাষার সংকট এর চাইতেও গভীরে। জাতিগতভাবে আমরা দিনে দিনে বাংলা ভাষা বিমুখ হচ্ছি এবং সময় সুযোগ পেলেই বিশ্বায়ন বা আন্তর্জাতিকতার নামে রোমান হরফের দাসে পরিণত হচ্ছি। রাষ্ট্র এর পৃষ্ঠপোষকতা করছে। শেখ হাসিনার সরকারও যদি এই পতন রোধ না করে তবে কার কাছে জাতির প্রত্যাশা বড় হবে। আমাদেরকে এখন তাই বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি তুলে ধরতে হচ্ছে।

 

কপিরাইট © মোস্তাফা জব্বার

প্রযুক্তি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায়: আনন্দ কম্পিউটার্স