বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে: মোস্তাফা জব্বার

Posted on 2018-09-12

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সময়ের এই জাতিকে পাকিস্তানের অংশ করার সব চেষ্টা অব্যাহত ছিল। খবর- পিআইডি মন্ত্রী বুধবার ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান আতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঠিক নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনা হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্গল ভেঙ্গে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। ১৯৪৮ সালে ‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই ঘোষণা মানি না, মানব না’ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা নিয়ে বঙ্গবন্ধু কাজ শুরু করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগকে পুর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী মুসলিম লীগকে আওয়ামী লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা ছিল বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দূরদশী চিন্তার ফসল। তিনি বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট, ৫৭’র কাগমারি সম্মেলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৮’র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান এবং ৭০’র নির্বাচনের পথ বেয়ে ৭১’র রক্ত স্রোত স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির আসনে আসীন করেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, আমিও সচিব হতে পারতাম না। জাতিসংঘে তিনিই প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্ট কালো রাতে শাহাদত বরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মুনাজাত করা হয়।

 

কপিরাইট © মোস্তাফা জব্বার

প্রযুক্তি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায়: আনন্দ কম্পিউটার্স